লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
এনজিও কর্মীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় কারাগারে থাকা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রিপনকে (৪২) দলীয় পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১ নভেম্বর) লালমনিরহাট জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জয়নুল আবেদীন স্বপন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ বিএনপি নেতা রিপনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া রিপন আদিতমারী উপজেলার পশ্চিম ভেলাবাড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে এবং ভেলাবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ঘটনার পটভূমি
মামলার এজাহারে বলা হয়, ভেলাবাড়ি ব্র্যাক শাখার ক্রেডিট অফিসার (প্রগতি) হিসেবে কর্মরত এক নারী এনজিও কর্মীর সঙ্গে স্থানীয় নাসির উদ্দিন জয় নামের এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরে বিয়ের দাবিতে ওই নারী প্রেমিক জয়ের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। বিষয়টির বিচার চেয়ে গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি বিএনপি নেতা রিপনের সঙ্গে দেখা করেন।
রিপন তাঁকে বিচার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সহযোগী চাঁন মিয়ার বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেন। ওই রাতে রিপন সেখানে গিয়ে এনজিও কর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। পরদিন রাতে চাঁন মিয়াও একইভাবে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার এক মাস পর, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নারী আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় রিপনসহ আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পান।
তবে গত বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দলীয় ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক মন্তব্য
ঘটনার পর জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জয়নুল আবেদীন স্বপন স্বাক্ষরিত এক পত্রে গোলাম কিবরিয়া রিপনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একই চিঠিতে ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মালেক সরকারকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে বিদ্যালয়ের পদ থেকে রিপনকে এখনো বরখাস্ত করা হয়নি।
ভেলাবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন,
“এখনও তাঁকে বরখাস্ত করা হয়নি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে রেজল্যুশন লিখে আনতে বলা হয়েছে। রেজল্যুশন করে তাঁকে বরখাস্ত করা হবে।”