নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কেউ পদে না থাকায় রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি নতুন সদস্যদের শপথ পড়াবেন। কোনো কারণে সেটি সম্ভব না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান।
শপথ নিয়ে সাংবিধানিক বিকল্প
আসিফ নজরুল বলেন, ‘বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা স্পিকারের, তিনি না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের কাউকেই পাওয়া সম্ভব নয়। একজন নিখোঁজ এবং অন্যজন কারাগারে আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে এবং তাঁরা পদত্যাগও করেছেন। ফলে তাঁদের দিয়ে শপথ করানোর কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও জানান, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাবেন। এক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনীত করবেন। আইন উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন যে, প্রধান বিচারপতি রাজি থাকলে তিনিও এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
তিন দিনের সময়সীমা ও সিইসির ভূমিকা
আইন উপদেষ্টা আরও একটি বিকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে তিন দিনের মধ্যে শপথ সম্পন্ন না হয়, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন। তবে সরকার নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে চায় না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণ করাতে চাই। এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। সিইসি শপথ করানোর সুযোগ পেলেও তার জন্য তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়, যা আমরা এড়াতে চাই।’
সারসংক্ষেপ: শপথ গ্রহণের ক্রম
১. রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি: প্রথম পছন্দ (প্রধান বিচারপতি বা অন্য কেউ হতে পারেন)। ২. প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি): যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ না হয়।