নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংক্রান্ত গণভোট। এই গণভোটে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ তে সিল দেওয়ার মাধ্যমেই বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা এই আহ্বান জানান।
কেন এই গণভোট?
ড. ইউনূস বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির জীবনে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ এনে দিয়েছে, তাকে টেকসই করতে গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন। দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। এই সনদ বাস্তবায়নে জনগণের সরাসরি সম্মতি নিতেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে রাষ্ট্রে যা যা পরিবর্তন আসবে:
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় জুলাই সনদের আওতায় প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যেসব মৌলিক পরিবর্তন আসবে:
-
ক্ষমতার ভারসাম্য: একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
-
নির্বাচন ও সংবিধান: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। জনগণের সম্মতি ছাড়া সরকার ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না।
-
সংসদীয় সংস্কার: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে।
-
বিচার বিভাগ ও মৌলিক অধিকার: বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে।
-
ক্ষমা ও স্বীকৃতি: দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি নিজের ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা বাংলার সঙ্গে অন্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি জনগণের হাতে
ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তোলার জন্য ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে। ‘হ্যাঁ’ তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সনদ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও শোষণহীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।