স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে মহানবী (সা.)-এর প্রদর্শিত ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
‘জান্নাতের টিকিট’ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতারণার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বেহেশত ও দোজখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। যারা বিভিন্ন ‘টিকিট’ দিচ্ছে, তারা মূলত শিরক করছে। নির্বাচনের আগেই যারা এভাবে মানুষকে ঠকাচ্ছে, তারা নির্বাচনের পর দেশ ও মানুষকে কীভাবে ঠকাবে, তা সহজেই অনুমেয়।”
ষড়যন্ত্র ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বার্তা
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি মহল এখনো ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। যারা ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, তারা এখন ব্যালট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”
অর্থনৈতিক সংস্কার ও ফ্যামিলি কার্ড
বিএনপি চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে দেশের কৃষি ও বেকারত্ব দূরীকরণে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান:
-
ফ্যামিলি কার্ড: দেশের সকল দুস্থ পরিবারকে (গ্রাম ও শহর নির্বিশেষে) ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যা পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করবে।
-
কৃষির উন্নয়ন: সারাদেশে পুনরায় ‘খাল খনন’ কর্মসূচি শুরু করা হবে। তিনি বলেন, “খাল খননের মাধ্যমে আমরা সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াবো।”
-
নারীর স্বনির্ভরতা: শিক্ষিত মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ভোটের গুরুত্ব ও আহ্বান
বিগত ১৫ বছরের লুটপাটের রাজনীতির অবসান ঘটাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা জনগণের শাসন কায়েম করতে চাই। সেজন্য ধানের শীষকে বিজয়ী করে দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০ বছর পর তারেক রহমানের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে আজ পুরো সিলেট নগরী ছিল উৎসবমুখর। সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সংবাদের মূল অংশ (Highlight): “দিল্লি নয়-পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা সকল শিক্ষিত মা-বোনকে স্বনির্ভর করতে চাই এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দুস্থ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।”