নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নিজ বাড়ির টিউবওয়েল পাড় থেকে শহিদা বেগম (২৬) নামের এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নারায়ণগঞ্জ ইউনিয়ননের দুর্গম গণিরচর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদা বেগম ওই গ্রামের চা-দোকানি আজিজুল ইসলামের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে আজিজুল ইসলাম তার বড় মেয়েকে নিয়ে কালারচর বাজারে নিজের দোকানে ছিলেন। বাড়িতে শহিদা বেগম ও তার চার বছর বয়সী ছোট মেয়ে ছিল। রাত ৮টার দিকে রাতের খাবারের জন্য চাল ধুতে টিউবওয়েল পাড়ে যান শহিদা। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সুযোগে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
যেভাবে জানাজানি হলো
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার সময় বাড়ির ভেতর থেকে শহিদা বেগমের ছোট মেয়ের অস্বাভাবিক কান্নার শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তারা টিউবওয়েল পাড়ে শহিদাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশের বক্তব্য
খবর পেয়ে কচাকাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় পুলিশের পৌঁছাতে মধ্যরাত হয়ে যায়। কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গৃহবধূর শ্বাসনালি কেটে গেছে।
তিনি আরও বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা ঘাতককে শনাক্ত করা যায়নি। তবে পুলিশ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।”
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।