১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে আটক নিয়ে ছাত্রদল ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি

admin
প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারি, বুধবার, ২০২৬ ২১:৪৯:১৬
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে আটক নিয়ে ছাত্রদল ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ

Manual8 Ad Code

নারায়ণগঞ্জ আদালতে যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে আসা এক ছাত্রলীগ নেতাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সজীব নামে এক ছাত্রলীগ নেতা একটি যৌতুক মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে তিনি আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। এসময় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান সজীবকে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন’ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে শনাক্ত করেন এবং তাকে ধরে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

Manual4 Ad Code

আইনজীবী ও ছাত্রদলের মুখোমুখি অবস্থান

সজীবকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সমাজসেবা সম্পাদক রাজীব মণ্ডল সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। তিনি জোরপূর্বক সজীবকে ছাত্রদল নেতার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন। এ নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। এসময় ছাত্রদল নেতা ফারহানকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

Manual1 Ad Code

দুই পক্ষের বক্তব্য

আইনজীবী রাজীব মণ্ডল ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “সজীবের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী সানু আক্তার শান্তা একটি যৌতুক মামলা করেছেন। সেই মামলায় হাজিরা দিতে সজীব আদালতে এসেছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে আমরা বাধা দেই। পরে বিষয়টি পরিষ্কার হলে এবং ছাত্রদল নেতা ভুল স্বীকার করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।”

অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান অভিযোগ করে বলেন, “সজীব সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ করতেন এবং এ বিষয়ে আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চাইলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাই বাধা দেন। তারা উল্টো আমাকে হেনস্তা করেছেন এবং মারধরের চেষ্টা চালিয়েছেন।”

বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পর থেকে ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। আদালত পাড়ায় রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবীদের মধ্যকার এই সংঘাতের ঘটনায় সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Manual5 Ad Code