
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এখনো থাকেন কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় একটি সাধারণ এক বেডরুমের ফ্ল্যাটে। মাসে ২ হাজার ৩০০ ডলার ভাড়ার ওই অ্যাপার্টমেন্টে সিঙ্ক ফুটা হয়ে পানি পড়া থেকে শুরু করে জায়গা সংকট—সবই তাঁর নিত্যসঙ্গী। তবে এই সাধারণ জীবনের দিন শেষ হতে চলেছে, কারণ তিনি শিগগিরই উঠছেন নিউইয়র্ক সিটির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে।
বর্তমান বাসা মাত্র ৮০০ বর্গফুটের হলেও, গ্রেসি ম্যানশন হলো ২২৬ বছরের পুরোনো ও ১১ হাজার বর্গফুট আয়তনের এক রাজকীয় প্রাসাদ। আপার ইস্ট সাইডে ইস্ট নদীর তীরে অবস্থিত এই ভবনটি একসময়কে ‘ফ্যাকাশে লেমন কেকের মতো বাড়ি’ বলে বর্ণনা করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস।
এই প্রাসাদে রয়েছে বিলাসবহুল সাজসজ্জা, ঝাড়বাতির আলোয় ঝলমলে হলঘর, মেহগনি কাঠের দরজা, আপেল-ডুমুরগাছ ঘেরা বিশাল লন এবং এমনকি সবজি বাগানও। মেয়রের জন্য এখানে পূর্ণ-সময়ের একজন শেফ, বিশাল বলরুম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ফেডারেল’ স্থাপত্যে তৈরি নিচতলা রয়েছে।
অন্যদিকে, জোহরান মামদানির বর্তমান পাড়া অ্যাস্টোরিয়া হলো বহু সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র, যেখানে গ্রিক, মিশরীয়, মরক্কো ও লাতিন জনগোষ্ঠী একসঙ্গে বসবাস করেন। এটি প্রাণবন্ত ও সাশ্রয়ী, আর নিউইয়র্কের অন্যতম জনপ্রিয় ফুড জোন হিসেবেও পরিচিত।
তবে আপার ইস্ট সাইডের গ্রেসি ম্যানশন একেবারেই অন্য জগৎ—এলিট, নিস্তব্ধ ও নিরাপত্তায় ঘেরা। উঁচু প্রাচীর, চারদিকে ক্যামেরা এবং পুলিশ পাহারা; নিরাপত্তার এই কারণেই সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিও জোহরানকে সেখানে উঠতে পরামর্শ দিয়েছেন।
এই বাড়ির ইতিহাসও কম রোমাঞ্চকর নয়। সাবেক মেয়র ফিওরেলো লাগার্ডিয়া ১৯৪২ সালে প্রথম সেখানে ওঠেন। আবার রুডি গুলিয়ানির দ্বিতীয় বিয়েও এই ম্যানশনের লনে হয়। সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস অবশ্য একে “ভূতের বাড়ি” বলেছিলেন মজা করে।
অতীতের মেয়রদের কেউ কেউ বিলাসবহুল জীবনে দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে গেছেন, কেউ বা সাধারণ জীবনের টান অনুভব করেছেন। যেমন, প্রাক্তন মেয়র এড কচ বলেছিলেন, “পশ জীবনের সঙ্গে খুব দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়—আর আমি সেটাই করেছিলাম।”
এবার দেখা যাক, জোহরান মামদানি—অ্যাস্টোরিয়ার সাধারণ ফ্ল্যাট থেকে উঠে রাজকীয় ম্যানশনের বিলাসে—কীভাবে মানিয়ে নেন এই নতুন অধ্যায়ে। ✨