৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নিউইয়র্কের মেয়রের স্ত্রী রামা দুয়াজি: শিল্পে সাহসী আরব নারীর প্রতিচ্ছবি

admin
প্রকাশিত ০৫ নভেম্বর, বুধবার, ২০২৫ ২১:২২:৩২
নিউইয়র্কের মেয়রের স্ত্রী রামা দুয়াজি: শিল্পে সাহসী আরব নারীর প্রতিচ্ছবি

Manual8 Ad Code

সিরীয়–আমেরিকান ইলাস্ট্রেটর ও ডিজাইনার রামা দুয়াজি সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী হিসেবে। তবে পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি নিজেই একজন প্রতিভাবান শিল্পী, যিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে নারী, আরব পরিচয়, প্রতিরোধ ও সহমর্মিতার বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করেন।

Manual4 Ad Code

বুধবার (৫ নভেম্বর) আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, রামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। নয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি দুবাইয়ে চলে যান। সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং কাতারের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিতে সংক্ষিপ্ত সময় পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রিচমন্ড ক্যাম্পাসে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

রামার শিল্পকর্ম মূলত কালো–সাদা রেখাচিত্রে নারীর প্রতিকৃতি, যেখানে প্রতিফলিত হয় নারীসত্তা, বৈচিত্র্য ও মানবিক সংবেদনশীলতা। তাঁর কাজ প্রকাশিত হয়েছে দ্য নিউ ইয়র্কার, ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি, অ্যাপল, স্পোটিফাই, ভাইস এবং টেট মডার্ন–এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে। ভার্জিনিয়া ও বৈরুতেও তাঁর একক প্রদর্শনী হয়েছে।

২০২১ সালে এক ডেটিং অ্যাপে রামা ও জোহরান মামদানির পরিচয় হয়। পরে তাঁদের প্রথম দেখা হয় ব্রুকলিনের এক ইয়েমেনি কফিশপে। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হলে তাঁরা লোয়ার ম্যানহাটনের আদালতে বিয়ে করেন। তাঁদের দুবাইয়ের বাগদান ও নিকাহ অনুষ্ঠান ছিল রূপকথার মতো—সূর্যাস্তের পটভূমিতে ফুল ও সবুজে সাজানো এক রোমান্টিক আয়োজন।

Manual3 Ad Code

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রামা ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে শিল্প ও সামাজিক বিষয়ে বেশি সক্রিয়। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের প্রতি তাঁর দৃঢ় অবস্থান বহুবার প্রকাশ পেয়েছে। ২০২১ সালে তাঁর একটি আলোচিত ইলাস্ট্রেশনে তিনজন মানুষকে একসঙ্গে কনুই মিলিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যায়, যার ওপরে আরবিতে লেখা ছিল—“আমরা ছাড়ব না।” গাজায় ক্ষুধা ও মানবিক সংকট নিয়েও তিনি সচেতনতা তৈরির কাজ করেছেন।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে রামা হবেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের বাসভবন গ্রেসি ম্যানসনে বসবাসকারী প্রথম জেনারেশন–জেড সদস্য। তবে জোহরান মামদানির ভাষায়, “রামা শুধু আমার স্ত্রী নন, তিনি একজন অসাধারণ শিল্পী, যিনি নিজের কাজ দিয়ে পরিচিত হওয়ার যোগ্য।”

করোনার সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন দুবাইয়ে কাটান। পরে নিউইয়র্কে স্থায়ী হন। এক সাক্ষাৎকারে রামা বলেন, “আমি নতুন শহরে এসেছিলাম, কাউকে চিনতাম না। তাই ইনস্টাগ্রামে দেখা সৃজনশীল মানুষদের বার্তা পাঠাতে শুরু করি। অবাক করা বিষয় হলো, নিউইয়র্কে মানুষ নতুন সম্পর্ক গড়ায় বেশ খোলা মন।”

Manual1 Ad Code

রামা দুয়াজি আজ শুধু নিউইয়র্ক মেয়রের স্ত্রী নন, বরং আধুনিক আরব নারীর এক সাহসী ও সৃজনশীল প্রতীক, যিনি শিল্পের মাধ্যমে নিজের শিকড়, সংস্কৃতি ও মানবিক দায়বদ্ধতাকে এক সূত্রে বেঁধেছেন।

Manual2 Ad Code