
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) বর্তমান প্রশাসক জনাব কাইয়ুম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিজের তৈরি করা নিয়ম নিজেই লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর যত্রতত্র ঝুলে থাকা প্রশাসকের প্রচার সম্বলিত সাইনবোর্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। সচেতন নগরবাসী প্রশ্ন তুলছেন— "আইন কি সবার জন্য সমান নয়? নিয়ম ভঙ্গের শাস্তি কি প্রশাসক নিজে মাথা পেতে নেবেন?"
সম্প্রতি সিলেট নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন এবং নিয়মবহির্ভূত সাইনবোর্ড অপসারণে কঠোর অবস্থান নেয় সিসিক। সিসিক প্রশাসকের নির্দেশনায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের জরিমানা ও উচ্ছেদ করা হয়। অথচ বিড়ম্বনার বিষয় হলো, খোদ প্রশাসকের নিজের প্রচার সম্বলিত সাইনবোর্ড এখনো নগরীর বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে।
নগরবাসীর পক্ষ থেকে সুনির্মল সেনসহ একাধিক সচেতন নাগরিক এই দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, সিসিক প্রশাসক যখন সাধারণ মানুষের জন্য নিয়ম তৈরি করেন এবং তা অমান্য করলে শাস্তি দেন, তখন সেই একই নিয়ম তার নিজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
নগরীর বিভিন্ন মোড়ে প্রশাসকের ছবি ও নাম সম্বলিত সাইনবোর্ডগুলো এখনো কেন ঝুলে আছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নাগরিকরা জানতে চেয়েছেন:
প্রশাসকের এই প্রচার সামগ্রী কি সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত?
যদি অবৈধ হয়, তবে কেন তা এখনো অপসারণ করা হয়নি?
সাধারণ মানুষের মতো সিসিক প্রশাসক কি নিজেকে জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা যখন নিজের তৈরি আইন ভঙ্গ করেন, তখন সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা তৈরি হয়। সিসিক প্রশাসকের উচিত দ্রুত এই প্রচার সামগ্রীগুলো অপসারণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। অন্যথায়, নগরবাসীর কাছে সিটি কর্পোরেশনের এই অভিযান কেবল 'দুর্বলের ওপর কঠোরতা' হিসেবেই পরিগণিত হবে।
সংবাদ বিশ্লেষণ: একজন জনসেবক হিসেবে প্রশাসকের নৈতিক দায়বদ্ধতা হলো আগে নিজেকে নিয়মের অধীনস্থ করা। সিলেট নগরবাসী এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন, জনাব কাইয়ুম চৌধুরী এই অনিয়মের দায় স্বীকার করে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা দুঃখ প্রকাশ করেন কি না।