
উত্তরায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন, কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা, ইলিশ ৩২০০, গরুর মাংস ৮০০ টাকা
সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরার বিডিআর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি, মাছ, মাংস ও ডিমের দামে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, টমেটো, ধনেপাতা ও বিভিন্ন ধরনের মাছের উচ্চমূল্যে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাজারে অধিকাংশ ক্রেতাই অভিযোগ করেছেন, আয়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের কেজি ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, টমেটো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটোল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁপে ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা এবং গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে কচুর লতি ও কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কেপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শাকের বাজারেও বেড়েছে দাম। লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকায়।
মাছের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। চিংড়ি মাছ প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পোয়া মাছ ২৬০ টাকা, শোল মাছ ৭০০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে হাজার টাকারও বেশি।
ইলিশের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩,২০০ টাকা দরে।
মাংস ও পোলট্রির বাজারে দেখা গেছে, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। এক ডজন লাল মুরগির ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা বাজার মনিটরিং জোরদার, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।