
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সদস্যদের মোতায়েন করার প্রাথমিক পরিকল্পনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মতে, তরুণ ছাত্রদের এ ধরনের জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বির্তকিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, "আমরা শুনেছি ইসি ১৬ হাজারের মতো বিএনসিসি সদস্য মোতায়েন করতে চায়। আমরা কমিশনকে বলেছি, তারা ছাত্র। সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল ও সংবেদনশীল কাজে তাদের সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এতে তারা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান উভয়ই বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে আইনে যাদের কথা বলা হয়েছে, তাদেরই রাখা উচিত।" ইসি এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।
ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি নেতা বলেন, গত এক-দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার মাইগ্রেশন বা স্থানান্তর হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি হোল্ডিং নম্বরে ২০-৩০ জন ভোটার দেখা যাচ্ছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনকে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এবং বিএনপি আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে।
নির্বাচনকালীন ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের গুঞ্জন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, "‘শান্তি কমিটি’ শব্দটি আমাদের কাছে অত্যন্ত অপ্রিয়। ইসি জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি করার সিদ্ধান্ত তাদের নেই।" এ ছাড়া নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ত্যাগের বিধান কঠোরভাবে পালনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
ইসি অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের মধ্যে অনেক অখ্যাত ও অপরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম থাকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিএনপি। পর্যবেক্ষণের প্রকৃত সক্ষমতা আছে কি না, তা গভীরভাবে যাচাই করার জন্য ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।