নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী জাতীয় নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার কোনো বিশেষ দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে না।
আজ রোববার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রেস সচিব।
নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ইইউ-এর ভূমিকা
প্রেস সচিব জানান, ইইউ বাংলাদেশে একটি বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। প্রতিনিধিদলটি জানিয়েছে, তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সারা দেশ সফর করবে। ইভারস আইজাবসের উদ্ধৃতি দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে ইইউ তখন পর্যবেক্ষক পাঠায়নি; তবে এবার বাংলাদেশকে বিশেষ বন্ধু বিবেচনা করে তারা এই প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে।
গণভোট ও ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গ
বৈঠকে আগামী দিনে অনুষ্ঠেয় গণভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইইউ প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রেস সচিব জানান:
-
সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশজুড়ে প্রচারণা চালাবে।
-
আইনি পরামর্শ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ায় কোনো আইনি বাধা নেই।
-
জনগণকে সচেতন করতে সরকার দ্রুতই প্রচার শুরু করবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া কিছু প্রযুক্তিগত পদক্ষেপের কথা প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন:
-
বডি ওর্ন ক্যামেরা: ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ক্যামেরা ব্যবহার করবে।
-
সেন্ট্রাল অ্যাপ ও সিসিটিভি: সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং ক্যামেরাগুলো একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা চিহ্নিত করা যায়।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ
এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব জানান, পুরো আলোচনায় আওয়ামী লীগ বা তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো ধরনের কথা হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, এবারের নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক এবং এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।