নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে বলপ্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে গুলিস্তানে জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম এলাকায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।
সেনাপ্রধানের পরিদর্শন ও দিকনির্দেশনা
সংবাদ সম্মেলনের আগে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়ামে স্থাপিত সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় তিনি নির্বাচনের সময় আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা এবং নাগরিক-বান্ধব আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মূল পয়েন্টগুলো:
-
সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, “সেনাবাহিনী একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী। সেনাপ্রধানের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকব। আমাদের কাজ হবে সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করা।”
-
বলপ্রয়োগের নিয়ম: অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সেনাবাহিনীর জন্য নির্দিষ্ট ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় একান্ত প্রয়োজন হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ধাপে ধাপে বলপ্রয়োগের মাত্রা বাড়ানো হবে।
-
সারা দেশে সেনা মোতায়েন: মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে গত ২০ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
-
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সংস্কৃতি দেখা যায়। জানমালের ক্ষতি বা হয়রানি রোধে মাঠ প্রশাসন সহায়তা চাইলে সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখবে নির্বাচন কমিশন।
সারসংক্ষেপ
সেনাবাহিনী বর্তমানে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নিয়োজিত রয়েছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে অসামরিক প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করা।