সুনির্মল সেন, সিলেট | ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটকে কেন্দ্র করে সিলেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) থেকে সিলেট বিভাগজুড়ে বিজিবি সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ মোতায়েন করা হবে। একইসঙ্গে ভারতের সাথে সংযুক্ত সিলেটের ৩০২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।
টিলাগড়ে বিজিবির রণপ্রস্তুতি ও মহড়া
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর টিলাগড়স্থ সিলেট সরকারি কলেজ মাঠে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর উদ্যোগে একটি বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়া শেষে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে বিজিবির সিলেট সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়:
-
মোতায়েন: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেট বিভাগে বিজিবির প্রায় ৯০ প্লাটুন (২,১০০ জন) সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মাঠে নামবেন।
-
সীমান্ত সুরক্ষা: নির্বাচনী উত্তাপের সুযোগে সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র বা মাদক পাচার হতে না পারে, সেজন্য ৩০২ কিমি সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
-
স্ট্রাইকিং ফোর্স: বিজিবি সদস্যরা মূলত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির বিশেষায়িত টিম ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
সেক্টর কমান্ডার জানান, এবারের নির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি বডি-ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করবে। স্পর্শকাতর ও সীমান্তবর্তী ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজরদারির জন্য ড্রোনের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ ও জননিরাপত্তা
কর্ণেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন আশ্বস্ত করে বলেন, “জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।”
সিলেটের জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে বিজিবি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল এরই মধ্যে জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিজিবির এই আগাম তৎপরতা ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।