
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার রাত ৮টা ৯ মিনিটে সংগঠনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন ১২ তারিখেই (১২ ফেব্রুয়ারি) হবে। নির্বাচন হতেই হবে। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচাল করতে দেওয়া হবে না।’
এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহবাগ। শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড় অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এর ফলে শাহবাগ ও এর আশপাশের সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে তখন স্লোগান ছিল— ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’, ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিশাল মিছিল শাহবাগে এসে অবস্থান নেয়।
এর আগে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন সড়ক দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। টিয়ার গ্যাসের শেলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ এ সময় ছররা গুলিও নিক্ষেপ করেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলায় ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা আক্তার এবং রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে রাজধানীর পল্টনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। তার হত্যার বিচারের দাবিতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছুদিন ধরেই রাজপথে সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।