
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর | ১৭ মার্চ, ২০২৬
চাঁদপুর: আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চার বছর আগে চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাটের নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। ফলে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার যাত্রীকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। পন্টুনের উঁচু সিঁড়ি, বিশ্রামাগার ও শৌচাগারের অভাব এবং পরিবহন চালকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নামামাত্রই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ও কুলিরা মালামাল নিয়ে টানাটানি শুরু করছেন। এতে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে আসা যাত্রীরা চরম বিব্রতকর ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী রোকসানা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিশ্রামাগার না থাকায় খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। শিশুদের নিয়ে শৌচাগারে যাওয়ারও কোনো সুব্যবস্থা নেই। দূর থেকে আসা যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা নেই।" আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার সুযোগে পরিবহন চালকরা যাত্রীদের হয়রানি করছে।
জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় আধুনিক লঞ্চঘাটের কাজ মাঝপথে থমকে আছে। ঈদ উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রকৌশল বিভাগ কিছু অস্থায়ী মেরামত কাজ করলেও তা বিশাল সংখ্যক যাত্রীর চাপ সামলাতে অপর্যাপ্ত।
এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌবন্দরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, "নির্মাণকাজ চলমান থাকায় অস্থায়ী ঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।"
যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেন না যাত্রীরা। তবে চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এস এম ইকবাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, ঈদ উপলক্ষে নৌ পুলিশ ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে এবং এই তৎপরতা ঈদের পরেও অব্যাহত থাকবে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, "লঞ্চঘাটে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। আশা করছি সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবা নিশ্চিত হবে।"
তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা পর্যবেক্ষণ নয় বরং দ্রুততম সময়ে ঘাটের নির্মাণকাজ শেষ করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক।