
সুনির্মল সেন | কবি ও সিনিয়র সাংবাদিক
বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন আর মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যে কজন ছাত্রনেতা ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল, তাদের মধ্যে অন্যতম নূরে আলম সিদ্দিকী। একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন ছাত্র আন্দোলনের মধ্যমণি। আজ এই মহান বীরের অবদানের কথা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।
১৯৪০ সালের ২৬ মে ঝিনাইদহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই দেশবরেণ্য রাজনীতিক। ঝিনাইদহ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক শেষ করে ঝিনাইদহ কেসি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীকালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে পুরোদমে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতির মূলধারায়।
পারিবারিকভাবেই রাজনীতির আবহে বেড়ে ওঠা নূরে আলম সিদ্দিকীর পিতা নুরুন্নবী সিদ্দিকী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একনিষ্ঠ অনুসারী। স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়া এই নেতা ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০-১৯৭২ মেয়াদে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাকে বলা হয় ‘চার খলিফার একজন’। একাত্তরের উত্তাল মার্চে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের সময় তার ভূমিকা ছিল অনন্য। যুদ্ধের ময়দানে তিনি ছিলেন মুজিববাহিনীর অন্যতম প্রধান কর্ণধার। তার সাহসী নেতৃত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছিল।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে যশোর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ, ৮২ বছর বয়সে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজনীতির এই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার প্রয়াণে দেশ এক দেশপ্রেমিক ও আদর্শবাদী অভিভাবককে হারায়।
উপসংহার: নূরে আলম সিদ্দিকী কেবল একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি আদর্শের নাম। দেশপ্রেম, সংগ্রাম আর সততার যে শিক্ষা তিনি রেখে গেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখাবে। হে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান, তোমার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।