আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে সরকারের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে তরুণ জেন–জি প্রজন্মের আন্দোলন শুরু হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই দেশটিতে নেমে আসে বিশৃঙ্খলা।
কারাগারগুলোতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ভেঙে পালায় বিপুলসংখ্যক কয়েদি। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন জেলায় থানায় অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে দেশের দায়িত্ব নেয় সেনাবাহিনী। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় সেনা চৌকি বসানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর সর্বশেষ অভিযানে বুধবার রাতে মহারাজগঞ্জ এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, বেয়নেটসহ নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলাজু–মাছাপোখারি এলাকা থেকেও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৭৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে কাভ্রের ধুলিখেল জেলা কারাগারে কয়েদিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দিল্লিবাজার কারাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নেভানো হয়েছে।
পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের অনেককে পুনরায় আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সাপতারিতে চারজন, সুনসারিতে ২০২ জন, রুকুম (পশ্চিম)-এ ৪৩ জন, কপিলাবস্তুতে ৫০ জন এবং মিয়াগদিতে চারজনকে ধরা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।