
ফজলুর রহমান সাহেব তাঁর বক্তব্যে যে সত্যটি তুলে ধরেছেন—"চেয়ার ব্যক্তিকে নয়, ব্যক্তিই চেয়ারকে অলঙ্কৃত করে"—এটি বিশ্ব রাজনীতির এক শাশ্বত সত্য। নেলসন ম্যান্ডেলা বা মহাত্মা গান্ধীর মতো নেতারা আজ ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন তাঁদের ত্যাগের জন্য, কোনো নির্দিষ্ট সরকারি পদের জন্য নয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: ২৩ বছর বয়সে ১২০০ মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া যে সাহসিকতার পরিচয়, তার কাছে যেকোনো মন্ত্রিত্বই ছোট। তিনি নিজেই বলেছেন, তাঁর জীবনের সেরা অর্জন একজন 'বীর মুক্তিযোদ্ধা' হওয়া।
জনগণের ভালোবাসা: রাজনীতিতে ভোটের চেয়েও বড় সম্পদ হলো মানুষের দোয়া এবং শ্রদ্ধা। মন্ত্রী না হয়েও যখন সাধারণ মানুষ তাঁর জন্য আক্ষেপ করে, সেখানেই একজন নেতার প্রকৃত সার্থকতা।
আদর্শ ও সততা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে পদ-পদবী ছাড়া নিজের অবস্থান ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। সেখানে ফজলুর রহমান সাহেব তাঁর সততা ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার দিয়ে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ক্ষমতা বা পদ সাময়িক, কিন্তু আদর্শ চিরস্থায়ী। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সাহেবের অবদান ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন ছাড়িয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। মন্ত্রিত্ব না পাওয়াটা হয়তো তাঁর সমর্থকদের জন্য সাময়িক কষ্টের, কিন্তু তাঁর এই "ত্যাগের রাজনীতি" আগামী প্রজন্মের কাছে বড় একটি শিক্ষার বিষয় হয়ে থাকবে।
সারকথা: কোনো নির্দিষ্ট চেয়ার দিয়ে ফজলুর রহমানের মতো একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান, যার পরিচয় তাঁর ত্যাগ ও দেশপ্রেম।