
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য চাই বৃক্ষরোপণ
জাহেদ আহমেদ (শাকিল):: জাগো মুসলিম পরিষদ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ১০ হাজার বিক্ষরুপন কর্মসূচি অংশ হিসাবে এয়ারপোর্টে ও গোয়াইনঘাট থানায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। হুসাইনিয়া জামালুল কোরআন মাদরাসায়।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তোলে দরেন। জাগো মুসলিম পরিষদ এর প্রতিষ্ঠা. কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা হুসাইন আহমদ সাহেব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতী আবু হানিফা ,গোয়াইনঘাট থানা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আহাদ , সাধারণ সম্পাদক মুফতি জামাল সাহেব সহ অনেক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছিলো। জনাব শাহজাহান আহমদ এর অর্থায়নে কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয় । এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই সব বিষয়ে আলোচনা করেন।
অথচ মানুষের অপরিণামদর্শিতার কারণে সুজলা-সুফলা এ পৃথিবী প্রতিদিন বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে। সচেতনতার অভাবে নির্বিচারে চলছে বৃক্ষনিধন। ফলে জীবনধারণের নিয়ামক অক্সিজেনের সরবরাহ হ্রাস পাচ্ছে প্রবলভাবে। জীবনের জন্য, জীবিকার জন্য বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আর তাই বৃক্ষের গুরুত্ব উপলব্ধি করে গুনিজনরা বলেছেন, ‘আমরা যেমন স্নান করি এবং শুভ্র বস্ত্র পরিধান করি তেমনি বাড়ির চারপাশে যত্নপূর্বক একটি বাগান করে রাখা ভদ্রপ্রথার একটি অবশ্য কর্তব্য হওয়া উচিত।
বৃক্ষ মূলত পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখে। গাছপালা নিয়মিত বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে, নদীর ভাঙন থেকে ভূভাগকে রক্ষা করে । বৃক্ষাদি ঝড়-ঝঞ্ঝা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। সারকথা, পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করতে বনাঞ্চল সৃষ্টি ও বন সম্প্রসারণের বিকল্প নেই ।
একটি দেশের মোট ভূভাগের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন । দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ বনভূমি আমাদের দেশে নেই । সরকারি হিসেবে এদেশে বনভূমির পরিমাণ ১৭ ভাগ হলেও বাস্তবে অনেক কম। তাছাড়া দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বনভূমির পরিমাণ মাত্র ৩.৫ শতাংশ। তাই সময়ের প্রয়োজনে গাছ লাগানো এখন সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, বিশ্বের বনভূমি উজাড় হতে হতে অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্ব-পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। অথচ বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এ অবস্থার আশু পরিবর্তন আবশ্যক। এ লক্ষ্যে অধিক হারে বৃক্ষরোপণের জন্য গণসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। জাতীয় গণমাধ্যমগুলো এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও এ মহৎ উদ্যোগের অংশীদার করতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায় ।
পরিশেষে এ কথা বলা প্রাসঙ্গিক, বৃক্ষরোপণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনায় এনে জাতীয়ভাবে শক্ত কর্মসূচি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। মাওলানা হুসাইন আহমদ সাহেব এর দোয়ার মাধ্যমে সভার সমাপ্তি হয়।