
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রুশ তেলবাহী জাহাজ এবং তথাকথিত ‘ছায়া বহর’ (Shadow Fleet)-এর ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর কড়াকড়ি ও জাহাজ জব্দের ঘটনার প্রতিবাদে এবার কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিন জানিয়েছে, রুশ বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পশ্চিমা তৎপরতা বন্ধে প্রয়োজনে নৌবাহিনী ও রণতরী মোতায়েন করা হবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং শিপিং বিষয়ক ক্রেমলিন উপদেষ্টা নিকোলাই পাত্রুশেভ মস্কোভিত্তিক দৈনিক ‘আর্গুমেন্তি ই ফাক্তি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, সব সময়ের মতোই নৌচলাচলের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় গ্যারান্টার হলো নৌবাহিনী।” তিনি ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা পাঠিয়ে বলেন, এখনই দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ না করলে এই দেশগুলো রাশিয়ার সমুদ্রপথ, বিশেষ করে আটলান্টিক অববাহিকা অবরুদ্ধ করার ধৃষ্টতা দেখাবে।
পাত্রুশেভ রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ‘জলদস্যুতার মতো আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমারা পরিকল্পিতভাবে রাশিয়ার অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ ‘শিপিং’ বা নৌ-পরিবহন খাতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। রাশিয়ার অর্থনীতি সচল রাখতে তেল, শস্য ও সার রপ্তানি অব্যাহত রাখা জরুরি এবং এই পথ উন্মুক্ত রাখতে দূরবর্তী সমুদ্র এলাকাগুলোতেও স্থায়ীভাবে সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হতে পারে।
রাশিয়ার এই কঠোর অবস্থানের পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় ঘটনা কাজ করছে:
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান: গত জানুয়ারিতে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে কয়েক সপ্তাহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সাথে সম্পৃক্ত ‘ম্যারিনেরা’ নামের একটি রুশ পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দ করে মার্কিন বিশেষ বাহিনী।
ফ্রান্সের জরিমানা: চলতি মাসে ভূমধ্যসাগরীয় জলসীমায় ‘গ্রিঞ্চ’ নামের একটি রুশ ছায়া বহরের জাহাজ জব্দ করে ফ্রান্স। কয়েক মিলিয়ন ইউরো জরিমানা আদায়ের পর মঙ্গলবার জাহাজটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, “ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার একটি চড়া মূল্য আছে। রাশিয়া আর বিনা শাস্তিতে যুদ্ধের তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে না।”
নিকোলাই পাত্রুশেভ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ন্যাটো সামরিক জোট বাল্টিক সাগরে অবস্থিত রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটি অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি শান্তিপূর্ণ উপায়ে এর সমাধান না হয়, তবে রুশ নৌবাহিনী এই অবরোধ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে।”
ইউক্রেন আক্রমণের জেরে রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো যে বাণিজ্যিক জাহাজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, তাকে পশ্চিমারা ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহর বলে অভিহিত করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ পর্যন্ত ৫৯৮টি জাহাজকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউরোপীয় বন্দর ও সামুদ্রিক সেবা থেকে নিষিদ্ধ করেছে।