
রামাল্লাহ/গাজা:
ইসরায়েল অধিকৃত গাজার পশ্চিম তীরে নামাজরত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তির ওপর বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) এক সেনার বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আইডিএফ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সেনাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কাছে থাকা সরকারি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পিঠে রাইফেল ঝোলানো এক ব্যক্তি সিভিল পোশাকে একটি চারচাকার যান (এটিভি) চালিয়ে এসে নামাজরত এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে চিৎকার করে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনাটি রামাল্লাহর কাছে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনিকে ঘটনার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাড়িতে থাকলেও তাঁর দুই পায়ে তীব্র ব্যথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা মাজিদি আবু মোখো। তিনি অভিযোগ করেন, ভিডিওতে দেখা না গেলেও ওই সেনা তাঁর ছেলের চোখে পিপার স্প্রে ছিটিয়ে দেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাজিদি আবু মোখো বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকার এক কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। তিনি গ্রামের কাছে একটি অবৈধ চৌকি স্থাপন করেছেন এবং নিয়মিতভাবে গবাদিপশু চরানোর নামে গ্রামবাসীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি ও হুমকি দিয়ে থাকেন।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন রিজার্ভ সেনা। ক্ষমতার অপব্যবহার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সামরিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সেনাকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁকে পাঁচ দিনের জন্য গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও গ্রামে গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ক্ষেত্রে একটি রেকর্ডসংখ্যক সহিংস বছরের সাক্ষী।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন অপহৃত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের টানা সামরিক অভিযানে গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ও শিশু।