৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

পিরোজপুর টিটিসি-র দুই ইনস্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: তদন্ত ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

admin
প্রকাশিত ১৮ জানুয়ারি, রবিবার, ২০২৬ ১৭:২৩:৫৪
পিরোজপুর টিটিসি-র দুই ইনস্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: তদন্ত ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

Manual1 Ad Code

পিরোজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) দুই প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। আজ রোববার সকালে পিরোজপুর টিটিসি ভবনের সামনে ‘পিরোজপুরের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করা হয়।

Manual2 Ad Code

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— টিটিসি-র সিভিল ইনস্ট্রাক্টর কামরুল হাসান এবং ইলেকট্রিশিয়ান ইনস্ট্রাক্টর কবির আলম।

নিয়োগ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদেশগামী কর্মীদের বাধ্যতামূলক তিন দিনের ‘প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন’ (PDO) এবং সৌদি আরবগামী কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ‘তাকামল’ (Takamol) অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষায় পাস-ফেল করানোর এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এই দুই কর্মকর্তা। অভিযোগ উঠেছে, যারা নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ দিতে পারেন, তাদের সহজেই উত্তীর্ণ করা হয়। অন্যদিকে, দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের সুপরিকল্পিতভাবে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়।

১০ কোটি টাকা আত্মসাতের দাবি

মানববন্ধনে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই ঘুষ-বাণিজ্যের মাধ্যমে ওই দুই কর্মকর্তা আনুমানিক ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এতে অনেক যোগ্য কর্মী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হারিয়ে আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। বক্তারা বলেন, “কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতি দেশের শ্রমবাজারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অভিযুক্তদের বক্তব্য

দুর্নীতির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিভিল ইনস্ট্রাক্টর কামরুল হাসান। তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

Manual8 Ad Code

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইলেকট্রিশিয়ান ইনস্ট্রাক্টর কবির আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

টিটিসি-র সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় নাগরিক অংশ নেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, অভিযুক্তদের অপসারণ ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

Manual4 Ad Code