২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার অভিযোগ শহীদ পরিবারগুলোর

admin
প্রকাশিত ০১ ডিসেম্বর, সোমবার, ২০২৫ ১৬:০৯:১৬
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার অভিযোগ শহীদ পরিবারগুলোর

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, সোমবার

Manual8 Ad Code

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের স্বার্থ রক্ষা এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল—এ মর্মে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কয়েকজন পরিবারের প্রতিনিধি। তাঁদের দাবি, সেনাবাহিনীর মধ্যে ‘ভারতবিরোধী’ অবস্থানকে দমন করতেই ২০০৯ সালের এ ঘটনা ঘটানো হয়।

সোমবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে ‘বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন নিহত বিডিআর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে রাকিন বলেন, “বার্তাটা ছিল—সেনাবাহিনীতে কেউ ভারতবিরোধী হলে তার পরিণতি হবে পিলখানার মতো।” তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শহীদ কর্নেল কুদরুতী ইলাহীর ছেলে সাকিব রহমান অভিযোগ করেন, কমিশন কিছু নাম আপাতত প্রকাশ না করার কথা বললেও “এই অজুহাতে নামগুলো আর প্রকাশ করা হবে না।” তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেন।

Manual3 Ad Code

শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের ছেলে মুবিন হক বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারের জন্য রাস্তায় নেমেছি। আওয়ামী লীগ ও তাদের কিছু অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা আমাদের মানহানি করেছে, সম্মিলিতভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে। শহীদ পরিবারকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।” তিনি শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শহীদ নূরুল ইসলামের সন্তান পরিচয় দিয়ে আশরাফুল আলম হান্নান অভিযোগ করেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার একটি মিথ্যা ইস্যু সামনে এনে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।” তিনি আরও দাবি করেন, “দেশের মানুষ জানে এই হত্যাকাণ্ড কারা করেছে—আওয়ামী লীগ করেছে, শেখ হাসিনা করেছে, এবং ভারতের সংশ্লিষ্টতা ছিল।” তাঁর দাবি, এই কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

এদিকে, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। রোববার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান।

Manual8 Ad Code

এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। সংবাদ সম্মেলনে কমিশন শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র ও পলাতক নেতা শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাহারা খাতুনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম প্রকাশ করে।

কমিশন আরও জানায়, এ ঘটনায় কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা—শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক ডিজিএফআই প্রধান জেনারেল আকবর—সম্পৃক্ত ছিলেন।

Manual4 Ad Code

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিদ্রোহে বিএআর (তৎকালীন বিডিআর) জওয়ানদের হাতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের দুই মাসের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।