পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) হলো একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা, যা প্রজননযোগ্য বয়সের নারীদের মধ্যে ১০–১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি শুধুমাত্র প্রজননব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলে না, বরং নারীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসকে পিসিওএস সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়, যাতে নারীরা ও সমাজ সচেতন হয়ে সময়মতো প্রতিকার নিতে পারে।
পিসিওএসের প্রধান লক্ষণ
-
মাসিক চক্রে অনিয়ম বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া
-
ডিম্বাশয়ে ছোট সিস্ট বা ফোলাভাব
-
অতিরিক্ত লোম গজানো
-
ব্রণ বা তৈলাক্ত ত্বক
-
চুল পাতলা হওয়া বা ঝরে পড়া
-
ওজন বৃদ্ধি, বিশেষ করে কোমরের চারপাশে
-
গর্ভধারণে সমস্যা
কারণ ও ঝুঁকি
সম্ভাব্য জটিলতা
-
বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান ধারণে সমস্যা
-
গর্ভাবস্থায় জটিলতা, যেমন ডায়াবেটিস বা প্রি-একলামসিয়া
-
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
-
উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল সমস্যা ও হৃদরোগ
-
মানসিক সমস্যা, যেমন অবসাদ ও উদ্বেগ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণের উপায়
-
নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ
-
চিনি ও পরিশোধিত শর্করা কমানো, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া
-
মাসিক নিয়মিত রাখতে হরমোনাল ওষুধ, ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে মেটফরমিন, ব্রণ ও অতিরিক্ত লোম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ
-
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা
পিসিওএস শুধুমাত্র প্রজনন সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।
সেপ্টেম্বরে এই উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নারীর স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখা।
ফরিদা ইয়াসমিন সুমি
প্রসূতি, স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক (গাইনি), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ