নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে নির্বাচনী এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে উত্তেজিত জনতার তোপের মুখে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পপি খাতুন। এসময় তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি তাঁর সরকারি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (৩৩ নম্বর কেন্দ্র) দুটি কক্ষ পরিষ্কার করার সময় দুই শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী কয়েকটি কাগজ খুঁজে পায়। পরে দেখা যায়, উদ্ধারকৃত কাগজের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারা দুটি ব্যালট এবং ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের চারটি ব্যালট পেপার রয়েছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় শত শত মানুষ বিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অবরুদ্ধ ইউএনও ও গাড়ি ভাঙচুর
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইউএনও পপি খাতুন। তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে ব্যালটগুলো জব্দ করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তথ্য প্রদানকারী শিক্ষক ও শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
এই ঘোষণায় উপস্থিত জনতা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা শিক্ষক ও শিশুদের নিতে বাধা দেয় এবং ইউএনও-কে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় উত্তেজিত জনতা তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়ে কাচ ভাঙচুর করে।
বর্তমান পরিস্থিতি
পুলিশের হস্তক্ষেপে শিক্ষক ও শিশুদের না নেওয়ার শর্তে ইউএনও এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হন। তবে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও পপি খাতুন বলেন, “সামগ্রিক বিষয় পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, ব্যালট পেপারগুলো কোথা থেকে এলো এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।