
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন কমান্ডোদের হাতে আটকের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পুতিনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
গতকাল তেল ও গ্যাস খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এমন কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন তিনি দেখছেন না।
গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে নজিরবিহীন অভিযান চালিয়ে ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্পের প্রশংসা করেন জেলেনস্কি। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে পুতিনের ক্ষেত্রেও একই সাহসিকতা দেখাতে পারে। তবে ট্রাম্প এই ভাবনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, “আমি মনে করি না পুতিনকে ধরার প্রয়োজন হবে। তাঁর সঙ্গে আমাদের সব সময়ই ভালো সম্পর্ক ছিল এবং থাকবে।”
পুতিনকে গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করলেও রুশ প্রেসিডেন্টের ওপর নিজের অসন্তুষ্টির কথা লুকাননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বে অন্তত আটটি যুদ্ধের মীমাংসা করেছি। ভেবেছিলাম রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটি এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ হবে, কিন্তু বিষয়টি সেভাবে এগোয়নি।” ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে দুই পক্ষেই বিপুল প্রাণহানি হচ্ছে এবং রাশিয়ার অর্থনীতিও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো অভিযানে নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে সরাসরি নিউইয়র্কের জেলে পাঠানো হয়। পুতিনের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় ইউক্রেনসহ মার্কিন মিত্ররা আশা করেছিল ওয়াশিংটন হয়তো রাশিয়ার ওপরও একই কঠোরতা দেখাবে।
তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তিনি আপাতত শক্তি প্রয়োগের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই ইউক্রেন সংকট সমাধানের পথে হাঁটতে চান।
সংক্ষেপে মূল পয়েন্ট:
মাদুরো আটকের প্রভাব: ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর পুতিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা।
জেলেনস্কির চাওয়া: পুতিনের বিরুদ্ধেও মার্কিন কমান্ডো স্টাইল অ্যাকশন।
ট্রাম্পের কৌশল: পুতিনকে ধরার পরিকল্পনা নেই, বরং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধ থামানোই লক্ষ্য।