সিলেট নগরীর ধোপাদিঘিরপাড় এলাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক ও রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারাগারের জায়গাটি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিকেলে সিসিকের জনসংযোগ দপ্তর থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
সভায় সিলেট-১ আসনের এমপি ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এবং কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় ১৭৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কারাগারটি একসময় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা ছিল। প্রায় এক দশক আগে শহরতলির বাদাঘাট এলাকায় নতুন কারাগার নির্মাণের পর পুরোনো কারাগারটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওই জায়গায় পার্ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন নগরবাসী।
পুরোনো কারাগারের জায়গায় পার্ক নির্মাণ ছিল এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ। এ বিষয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও উদ্যোগ নেন। পরে তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে জায়গাটি সিসিকের কাছে হস্তান্তরের সুপারিশ করে।
বৃহস্পতিবারের সভায় কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শেষে পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের জন্য জায়গাটি সিসিকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে ওই জায়গায় কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে না তোলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্কের পাশাপাশি রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। এতে নগরবাসীর বিনোদনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বন্দিদের বিদ্যমান কারাগারে স্থানান্তরের পর ধীরে ধীরে পুরো জায়গাটি পার্কে রূপ দেওয়া হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের কাজও শুরু হবে।