
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ও সাধারণ ভোটের জন্য আলাদা ব্যালট না ছাপিয়ে একই ব্যালট ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত সব ভিডিও প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “এককভাবে কোনো বাড়িতে ২০০-৩০০ ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও জব্দ করা হচ্ছে। ভোট শুরুর নির্ধারিত তারিখ আগামী ২২ জানুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।”
বিএনপি নেতা আরও যোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে এই জালিয়াতি করা হচ্ছে বলে তারা ধারণা করছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিএনপি।
বৈঠকে বিএনপি অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন একটি প্রস্তাব পেশ করে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী:
সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসহ সাধারণ যে ব্যালট ছাপানো হবে, সেটিই যেন পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
আলাদাভাবে প্রার্থীদের নাম ছাড়া কেবল প্রতীকের ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন নেই। এতে করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিশৃঙ্খলা কমবে বলে দলটি মনে করে।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর স্থগিত করা হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক সফর ছিল না। অথচ অন্যান্য দলের নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশন নির্বিকার রয়েছে।” এ বিষয়ে কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা আইনগত ও আচরণবিধি সংক্রান্ত পয়েন্টগুলো কমিশনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন—চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।