প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম তাঁর বরখাস্তের আদেশ জারি করেন।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার রোকেয়া সাত্তার চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমা আক্তার নিয়মিত কর্মস্থলে থাকতেন না; তিনি থাকতেন ঢাকায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্নাতকপড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠদান করতেন এবং শিক্ষক হাজিরা খাতায় নাজমা আক্তারের নামে স্বাক্ষর করতেন।
ঘটনাটি প্রকাশ পায় গত রোববার অনলাইন গণমাধ্যম আজকের পত্রিকা-এ প্রকাশিত ‘শিক্ষিকা থাকেন ঢাকায়, খালিয়াজুরীতে তাঁর নামে স্বাক্ষর করেন স্নাতকপড়ুয়া’ শিরোনামের প্রতিবেদনের পর।
এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, “প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান ও হাজিরা খাতায় অন্যকে দিয়ে স্বাক্ষর করানো সরকারি চাকরিবিধি পরিপন্থী। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নাজমা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নূরারীপুর গ্রামে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রোকেয়া সাত্তার চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭৪ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। নাজমা আক্তার ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যোগ দেন, তবে যোগদানের পর থেকেই অনিয়মিত ছিলেন।
গত ২৮ অক্টোবর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নাজমা আক্তারের স্থলে স্নাতকপড়ুয়া হেপি আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী পাঠদান করছেন এবং হাজিরা খাতায় ‘নাজমা’ লিখে স্বাক্ষর করছেন। এ কাজে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফা আক্তারও সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।
হেপি আক্তার বলেন, “নাজমা ম্যাডাম ঢাকায় আছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কয়েক মাস ধরে আমি ক্লাস নিচ্ছি এবং তাঁর নামে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছি। এটা আমার ভুল হয়েছে।”