
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মেয়াদের শেষ সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় এবং বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, এ ধরনের চুক্তিগুলো কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এগুলো রাষ্ট্রের একটি ‘চলমান প্রক্রিয়া’।
আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, "এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।" পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যদি এই চুক্তিগুলো এগিয়ে না নেয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টিকে ‘অনুমাননির্ভর’ বলে এড়িয়ে যান।
সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের কোনো দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এমন পর্ষদে থাকেন না—এই সমালোচনার জবাবে ড. খলিল বলেন, "দুনিয়ার সব দেশে উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান নেই।"
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের বাইরেও প্রতিরক্ষায় ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের নেওয়া উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
| সরঞ্জাম/প্রকল্প | উৎস দেশ |
| জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান | পাকিস্তান |
| জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান | চীন |
| ইউরো ফাইটার টাইফুন | ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম |
| ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার | যুক্তরাষ্ট্র |
| টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার | তুরস্ক |
| সাবমেরিন | দক্ষিণ কোরিয়া |
| ড্রোন কারখানা নির্মাণ (G2G) | চীন |
| বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি | ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প |
প্রেক্ষাপট: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল অগ্রাধিকার রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন হলেও, মেয়াদের শেষ মুহূর্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। আজ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সেই সমালোচনারই প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করলেন।