
ঢাকা: প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) অনুষ্ঠিত হলো সমাবর্তন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জুংগাই ওয়াং। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
এ সমাবর্তনে মোট ৪,১২৬ জন শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েশন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬০ জন মাস্টার্স, ১৯৪ জন এমবিএ এবং বুটেক্স অধিভুক্ত কলেজসমূহ থেকে ১,২৫০ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ৪১ জন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, “এই সমাবর্তন শুধু বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নয়, দেশের বস্ত্রশিল্পের গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটি যুগান্তকারী অর্জন। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার মতো দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছে।”
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, “আমাদের বৈদেশিক আয়ের বড় অংশ আসে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাত থেকে। এই শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ সরবরাহে বুটেক্স অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দেশ ও জাতি আজ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সামনে চ্যালেঞ্জ থাকলেও তোমাদের সিদ্ধান্ত ও কাজ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।”
প্রধান বক্তা অধ্যাপক ড. জুংগাই ওয়াং বলেন, “ঢাকার মসলিন একসময় বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট বস্ত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজও বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাত বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক শিল্পের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “আজ ৪,১২৬ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি গ্রহণ করলেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁরা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫০ জনেরও বেশি ইতোমধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই সমাবর্তন কেবল অর্জনের নয়, বরং দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের সূচনা।”