
প্রাইম হসপিটালের কোটি কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যুব মহিলা লীগ নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তৃষ্ণা এবং তাঁর স্বামী ডা. আশরাফুলের বিরুদ্ধে
সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার প্রাইম হসপিটালকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালটির প্রায় ১৮১ জন বিনিয়োগকারী ও অংশীদারের অর্থ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালের সাবেক সিইও ও সিলেট মহানগর যুব মহিলা লীগ নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তৃষ্ণা ও তাঁর স্বামী ডা. আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ এককভাবে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতালের আর্থিক লেনদেন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাকাটা এবং বিভিন্ন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অডিট প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যাংক হিসাব থেকে ডা. আশরাফুল ইসলামের ব্যক্তিগত হিসাবে বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া ৩ কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দিনাজপুরের আমবাড়ী হাটে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বিল-ভাউচার, কোটেশনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি ছিল। এসব লেনদেনে আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর হোটেল মেট্রোতে একটি বৈঠকের পর হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিরোধ সৃষ্টি হলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ও হাঙ্গামার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে তাঁদের দাবি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া পরিবারের প্রায় ১০ জন সদস্যকে পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৫ কোটি টাকার একটি ভবন কেনার নামে ১ কোটি টাকা তছরুপ এবং নাইরপুরের ইমপালস হাসপাতালেও অর্থ স্থানান্তরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে ৯ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁদের আরও অভিযোগ, এডহক কমিটির নিয়মিত কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কয়েকজন বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেউ কেউ চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।
বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডেইজি সারোয়ার এর ডান হাত সিলেট মহানগর যুব মহিলা লীগ এর সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস তৃষ্ণা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সাথেও অনেক সুসম্পর্ক ও সক্ষতা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো অনেক মামলা রয়েছে। তিনি এখনো ফেসবুকে আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফেইসবুক আইডির লিংক https://www.facebook.com/Engr.J.F.Trishna
হাসপাতালের আর্থিক হিসাব স্বচ্ছ করা এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের ব্যাংক হিসাব, অডিট প্রতিবেদন, বিনিয়োগের নথি, পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।