১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে এনসিপির মার্চ আটকে দিল পুলিশ

admin
প্রকাশিত ০৭ জানুয়ারি, বুধবার, ২০২৬ ২২:৫৪:১৯
ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে এনসিপির মার্চ আটকে দিল পুলিশ

Manual7 Ad Code

ঢাকা, বুধবার:
কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্তিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী মার্চ’ আটকে দিয়েছে পুলিশ। ফেলানী হত্যার বিচারের দাবিতে আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাড্ডার শাহজাদপুর থেকে বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে এগোলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির নেতা-কর্মীরা।

Manual5 Ad Code

এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ডাকে বিকেলে শাহজাদপুর এলাকায় জড়ো হন নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তাঁরা বারিধারার দিকে রওনা দিলে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়।

Manual8 Ad Code

এ সময় এনসিপির নেতা-কর্মীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘কাঁটা তারের ফেলানী, আমরা তোমাকে ভুলিনি’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, ইন্ডিয়া নো মোর’, ‘এক দুই তিন চার, ইন্ডিয়া তুই হুঁশিয়ার’ এবং ‘ভারতের গোলামি, চলবে না চলবে না’—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের গুলিতে নিহত হয় ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপের মুখে ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলেও অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ খালাস পান। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আপত্তিতে ২০১৪ সালে পুনরায় বিচার হলেও সেবারও তিনি খালাস পান। এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের মাধ্যমে দেশটির উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। মামলাটির এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

আজকের কর্মসূচিতে এনসিপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত হয়নি। তাঁদের দাবি, ভারতের হস্তক্ষেপে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

Manual4 Ad Code

এ সময় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “সীমান্তে সেদিন শুধু ফেলানীকেই ঝুলিয়ে রাখা হয়নি, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকেও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। ভারতের মদদে আওয়ামী লীগ পিলখানা ও শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছে।”

Manual7 Ad Code

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডসহ সীমান্তে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিচার চেয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো দেশ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে জনগণ তার কঠোর জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।