
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
অমর একুশে বইমেলার ১৩তম দিনে এসে নতুন বই প্রকাশের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার মেলা শেষে বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র জানায়, এদিন নতুন ১৪৬টি বইসহ এবারের মেলায় মোট প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪২টিতে। বিগত বছরগুলোতে মেলার প্রথম সপ্তাহান্তেই এই মাইলফলক স্পর্শ করলেও এবার কিছুটা সময় লেগেছে।
এবারের মেলায় এখন পর্যন্ত প্রবন্ধের বই এসেছে মাত্র ৩৮টি। তবে সংখ্যায় কম হলেও স্টলগুলোতে প্রবন্ধের বইয়ের কাটতি বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন বিক্রয়কর্মীরা। বিশেষ করে মননশীল পাঠকেরা প্রবন্ধের বইয়ের খোঁজ করছেন।
মেলায় প্রবীণ ও নবীন লেখকদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধের বই এসেছে:
বিচ্ছিন্নতায় অসম্মতি: অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর এই প্রবন্ধ সংকলনটি নতুনভাবে প্রকাশ করেছে ‘পাঞ্জেরী’। যন্ত্রনির্ভরতার যুগে মানুষের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে বইটিতে আলোকপাত করা হয়েছে।
নির্বাচিত প্রবন্ধ: প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের ১২টি প্রবন্ধ নিয়ে বইটি এনেছে ‘পাঞ্জেরী’। এতে সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা স্থান পেয়েছে।
ধামাইল উৎসের সন্ধানে: ড. অসীম চক্রবর্তীর সম্পাদনায় ধামাইল গান ও নৃত্যের ওপর এই গবেষণাধর্মী বইটি প্রকাশ করেছে ‘ভাষাচিত্র’।
সাময়িকপত্রে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক (১৯০১-৪৭): ইসরাইল খানের সম্পাদনায় এই ঐতিহাসিক দলিলটি প্রকাশ করেছে ইউপিএল।
এছাড়া মাওলা ব্রাদার্স থেকে মাসউদ ইমরানের ‘ক্রিটিক্যাল শিল্প ও সাহিত্যতত্ত্ব’ এবং অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহানের ‘বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ বই দুটি পাঠকদের নজর কেড়েছে।
নতুন বইয়ের তালিকায় কবিতার বইয়ের দাপট বরাবরের মতোই বেশি। আগামী প্রকাশনী থেকে কবি মোহন রায়হানের ‘জ্বলে উঠি সাহসী মানুষ’ কাব্যগ্রন্থটি নতুন মলাটে এসেছে। অন্যদিকে, পুঁথিনিলয় প্রকাশ করেছে মুহাম্মদ আলকামা সিদ্দিকীর অনুবাদে ‘মওলানা রুমির রুবাইয়াৎ’।
মঙ্গলবার মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সদ্যপ্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণে আলোচনা সভা। সভায় বক্তারা বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর লেখনীর মাধ্যমে পাঠকদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও মানবিক বোধকে জাগ্রত করেছেন। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল, হরিশংকর জলদাস এবং সভাপতিত্ব করেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।
আজ বুধবার মেলা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।