
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর মরদেহ নিয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে শহরতলির বেতগাড়ি এলাকায় এই অবরোধ করা হয়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে বেতগাড়ি এলাকায় একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস একটি ইজিবাইককে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চামেলী খাতুন নামের এক গৃহবধূ মারা যান।
শুক্রবার সকালে চামেলী খাতুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর মরদেহ নিয়ে বেতগাড়ি লিচুতলা বাইপাস মোড়ে অবস্থান নেন। এসময় তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। অবরোধকারীদের প্রধান দাবি ছিল— ঝুঁকিপূর্ণ এই মোড়ে দ্রুত ফ্লাইওভার বা ওভারপাস নির্মাণ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। তিনি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন এবং দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এসময় তিনি আহত এক শিশুর সুচিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। তাঁর আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে তারা আবারও কঠোর আন্দোলনে নামবেন।
বগুড়ার হাইওয়ে পুলিশ সুপার আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান জানান, স্থানীয়দের ওভারপাস নির্মাণের দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে ইজিবাইক বা অটোরিকশার মতো ছোট যান চলাচল বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন।