
বগুলাবাজারে জনদুর্ভোগ লাঘবে নিজ অর্থায়নে রাস্তার মাটি কাটার কাজ শুরু করলেন যুবদল সভাপতি হারুনুর রশীদ
এম ডি ফারুক মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ৮ নং বগুলাবাজার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বালিচড়া দক্ষিণপাড়া থেকে মধ্য সোনাচুরা টিলা পর্যন্ত দীর্ঘদিনের অচল রাস্তার মাটি কাটার কাজ নিজ অর্থায়নে শুরু করেছেন বগুলাবাজার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী হারুনুর রশীদ।
সম্প্রতি স্থানীয় গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাস্তার মাটি কাটার কাজের উদ্বোধন করেন। এতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনের আশায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মধ্য সোনাচুরা হাওরের মধ্যে অনেকটা দ্বীপের মতো এলাকায় প্রায় ৪০-৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। কিন্তু যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় চরম বিপাকে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি এসে রাস্তা নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর আর তাদের খোঁজ নেওয়া হয় না। এবার নির্বাচনের আগেই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে হারুনুর রশীদ নিজ অর্থায়নে রাস্তার মাটি কাটার কাজ শুরু করায় তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “হারুনুর রশীদ আমাদের এলাকার ছেলে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই তিনি আমাদের কষ্ট বুঝেছেন এবং নিজের টাকা দিয়ে রাস্তার কাজ শুরু করেছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাচ্ছিলাম, যিনি মানুষের পাশে থাকবেন। তাই আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমরা ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবে তাকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”
তারা আরও বলেন, “হারুনুর রশীদ মেম্বার নির্বাচিত হলে এই রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেবেন—এমনটাই আমাদের বিশ্বাস। তার বর্তমান উদ্যোগই প্রমাণ করে তিনি এলাকার মানুষের উন্নয়ন নিয়ে আন্তরিক।”
রাস্তার মাটি কাটার বিষয়ে মেম্বার পদপ্রার্থী হারুনুর রশীদ বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। এই রাস্তার কারণে প্রায় ৪০-৫০টি পরিবারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে আসছেন। তাদের দুর্ভোগ আমারও কষ্টের কারণ। ইনশাআল্লাহ দ্রুত মাটি কাটার কাজ শেষ করার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে রাস্তাটি পাকা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের সেবা করার জন্য জনপ্রতিনিধি হওয়া জরুরি নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি নির্বাচিত হলে ১ নং ওয়ার্ডের যোগাযোগব্যবস্থাসহ শিক্ষা, কৃষি ও জনসাধারণের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দেব।”
এদিকে, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে রাস্তার মাটি কাটার কাজ শুরু হওয়ায় মধ্য সোনাচুরা টিলার বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সৃষ্টি হয়েছে।