
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, বরিশাল | ১১ এপ্রিল ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) পদোন্নতি কার্যকর এবং নতুন পদোন্নতি বোর্ড গঠনের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে পাঁচ কার্যদিবসের আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষকেরা। গতকাল শুক্রবার রাতে উপাচার্যের দপ্তরে এক লিখিত আবেদনের মাধ্যমে পদোন্নতিপ্রত্যাশী ৬০ জন শিক্ষক এই দাবি জানান।
আবেদনকারী শিক্ষকদের মধ্যে ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক রয়েছেন। শিক্ষকদের অভিযোগ:
দীর্ঘসূত্রতা: প্রায় ৬০ জন শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতির আবেদন করে অপেক্ষায় থাকলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
বোর্ড সম্পন্ন হলেও ঝুলে আছে পদোন্নতি: ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপকের বোর্ড ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সাড়ে পাঁচ মাস পার হলেও সিন্ডিকেট সভা না হওয়ায় তাদের যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না, যা শিক্ষকেরা ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
নতুন বোর্ড গঠন: বাকি ৩৬ জন শিক্ষকের পদোন্নতি বোর্ড আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, “বিগত ৭-৮ মাসে অন্তত ৩০ বার উপাচার্যের সঙ্গে বসেছি, অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি কেবল আমাদের ঘুরাচ্ছেন। আগামী রোববারের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি শুরু করব।”
শুক্রবার রাতের বৈঠকে উপাচার্য শিক্ষকদের জানান, আগামী ১৩ এপ্রিল ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) সাথে একটি সভা রয়েছে, যেখানে পদোন্নতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান, পদোন্নতির বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে ইউজিসির আপত্তি রয়েছে। তিনি বলেন, “ইউজিসি জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘অভিন্ন নীতিমালা’ অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠিও দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ওই নীতিমালা অনুসরণ শুরু করেছে।”
শিক্ষকেরা তাদের আলটিমেটামে স্পষ্ট করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। ১৩ এপ্রিলের ইউজিসি বৈঠকের পর উপাচার্য কী সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী পরিস্থিতি।