
বরিশাল, [তারিখ]:
বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী বিবির পুকুরে আবারও বিভিন্ন জাতের মরা মাছ ভেসে উঠেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুকুরটিতে এসব মরা মাছ ভাসতে দেখা যায়। এতে চারপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও বিনোদনপ্রেমীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিবির পুকুরে প্রায়ই মাছ মরে ভেসে ওঠে। পচা-গলা মাছের দুর্গন্ধে পুকুরপাড় দিয়ে চলাচলের সময় নাক চেপে হাঁটতে হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দুর্গন্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
পরিবেশবাদীদের মতে, বাণিজ্যিকভাবে পুকুরটিতে মাছ চাষ করার কারণেই বারবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পুকুরের পানিতে মারাত্মক দূষণ ঘটছে এবং আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, অতীতে বিবির পুকুরের সঙ্গে কীর্তনখোলা নদীর সরাসরি সংযোগ ছিল। বর্তমানে নদী থেকে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ময়লা ফেলার কারণে পুকুরটির পানি মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। পুকুরের পানি নীল রং ধারণ করেছে এবং পানির ওপর একধরনের স্তর জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) তত্ত্বাবধানে থাকা এই পুকুরটি ইজারা নিয়ে মাছচাষিরা বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে থাকেন। বিভিন্ন সময় সেই মাছ মরে পচে ভেসে ওঠে, ফলে দুর্গন্ধে পুকুরপাড়ে অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন গোলাপ বলেন, “পুকুরপাড়ে এসে মরা মাছের দুর্গন্ধে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত মরা মাছ অপসারণের পাশাপাশি পুকুরের পানিদূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশালের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, “নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত বিবির পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করায় বারবার মাছ মরে ভেসে উঠছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুকুরের পানির মান মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে গেছে। সিটি করপোরেশনের উচিত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশালের পরিদর্শক রকিব উদ্দিন বলেন, “বিবির পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পানির মান যাচাই করা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “মরা মাছ দ্রুত অপসারণের জন্য ইজারাদারকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পুকুরের পানি দূষণ ঠেকাতে কিছু অংশ জাল দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। এতে কাজ না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, বিবির পুকুর বরিশাল নগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী জলাশয়। উনিশ শতকে জনসাধারণের জলকষ্ট দূর করতে জিন্নাত বিবি নামে এক মুসলিম নারীর উদ্যোগে পুকুরটি খনন করা হয়। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই পুকুরটি সদর রোডের পূর্ব পাশে অবস্থিত এবং বরিশাল নগরের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এটি নগরবাসীর একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।