
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল | ৮ মার্চ ২০২৬
বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ ‘হানিট্রাপ’ দলের সদস্য বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: বরিশাল নগরীর সাগরদী ব্রাঞ্চ রোডের বাসিন্দা মিলিতা দত্ত ওরফে ম্যালাইসা (২১) এবং ইম্পিরিয়াল হোটেলের কর্মচারী মো. সান্টু (২৮)।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম খান পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। শনিবার রাতে তিনি ইম্পিরিয়াল হোটেলের ক্যামেরা মেরামতের জন্য সেখানে যান। হোটেলের চতুর্থ তলার ৪১৮ নম্বর কক্ষে গেলে আসামি মিলিতা দত্ত তার সঙ্গে কথা বলে রুম থেকে বেরিয়ে যান। এর পরপরই সেখানে ওত পেতে থাকা ৮-১০ জনের একটি দল জোরপূর্বক ওই কক্ষে প্রবেশ করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে হোটেলের খাটে বসিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাকে ‘অসামাজিক কাজে লিপ্ত’ হিসেবে অপবাদ দেয়। এ সময় চক্রটি তার পকেট থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেড়ে নেয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১৩ হাজার টাকা দাবি করে। অন্যথায় ভুক্তভোগীর ছবি ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কৌশলে একজনকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানালে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাকি আসামিরা পালিয়ে গেলেও মিলিতা ও সান্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ হানিট্রাপ দলের সক্রিয় সদস্য। রোববার এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আসামি মিলিতা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে। তার মোবাইল ফোন জব্দ করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ লাভের উদ্দেশ্যে এই হানিট্রাপ চক্রটি তৈরি করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করে আসছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বলে নিশ্চিত করেছে।