
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও ভোলা সদর উপজেলার সীমানাঘেঁষা কালাবদর নদীতে ইলিশ রক্ষা অভিযানে গিয়ে জেলেদের হামলার মুখে পড়েছে কোস্ট গার্ড। গতকাল সোমবার বিকেলে কালাবদর নদী সংলগ্ন একটি খালের ভেতর এই ঘটনা ঘটে। তবে এই অভিযানকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ বলে দাবি করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার একটি ৭ মিনিটের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন তিন নদীর মোহনায় কোস্ট গার্ডের দুটি স্পিডবোট ইলিশ শিকারি জেলেদের ধাওয়া করে। জেলেরা একটি খালের ভেতর আশ্রয় নিলে কোস্ট গার্ড সেখানে প্রবেশ করে এবং সেখানেই সংঘবদ্ধ জেলেরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি এবং ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদি হাসান উভয়েই জানান, এই অভিযানের বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরকে কিছুই জানানো হয়নি। তাদের মতে, কোস্ট গার্ড এখানে দুটি নিয়ম ভঙ্গ করেছে: ১. অভিযানে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। ২. ভোলার কোস্ট গার্ড তাদের নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে বরিশালের জলসীমায় ঢুকে অভিযান চালিয়েছে।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, "কোস্ট গার্ড ভোলা থেকে এসে মেহেন্দীগঞ্জে অভিযান করেছে, যা তারা নিয়ম অনুযায়ী করতে পারে না। মৎস্য কর্মকর্তাদের না জানিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা সঠিক হয়নি।"
হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোস্ট গার্ড দক্ষিণ মিডিয়া সেলের প্রধান লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন:
"অভয়াশ্রমে ইলিশ আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। আমরা অভিযানে গিয়ে অবৈধভাবে নিধন করা ইলিশ জব্দ করেছি এবং তখন এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ভিডিওটি কাটছাঁট করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে।"
জলসীমা ও মৎস্য কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ জোনের আওতায় আটটি জেলার নদ-নদী পড়ে, তাই জলসীমা লঙ্ঘনের তথ্য সঠিক নয়। এছাড়া জব্দকৃত ইলিশ মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৎস্য অধিদপ্তর এবং কোস্ট গার্ডের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পেয়েছে। বিষয়টি মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে।