বরিশাল: বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত বর্জনের ঘোষণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। একই সঙ্গে তাঁরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও এজলাস ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ সাজুসহ ৬৫ জন আওয়ামীপন্থী আইনজীবী এ প্রতিবাদ জানান।
বিজ্ঞপ্তির বক্তব্য: বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদেকুর রহমান লিংকনের একক সিদ্ধান্তে কোর্ট বর্জন, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং এজলাস ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদ করছি।’
পাশাপাশি সাধারণ আইনজীবীদের মতামত উপেক্ষা করে এস এম সাদেকুর লিংকনের একক সিদ্ধান্তে আদালত বর্জনের ঘোষণায় সাধারণ আইনজীবীরা একমত নন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তাঁকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে পরদিন মঙ্গলবার বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এজলাস ভাঙচুর ও মামলা: পরবর্তীতে বিক্ষোভকারী আইনজীবীরা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এই ঘটনার নেতৃত্ব দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী এস এম সাদেকুর রহমান লিংকন। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বুধবার ২০ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। ওই মামলায় অ্যাডভোকেট লিংকনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরবর্তী পদক্ষেপ: এজলাসে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ১২ জন আইনজীবীর সনদ বাতিল চেয়ে ইতিমধ্যে বার কাউন্সিলে আবেদন করা হয়েছে। বরিশাল আদালতে চলমান এই অচলাবস্থা এবং আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।