সুনির্মল সেন: মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,বীর মুক্তিযোদ্ধা,চট্টলবীরের রক্ত যার ধমনীতে, তাঁর চলনে-বলনে রাজকীয় আভিজাত্য আর আদর্শের দৃঢ়তা থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এক উদীয়মান উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম, যিনি পৈতৃক উত্তরাধিকার আর মেধার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে চট্টগ্রামের মাটি যেমন উর্বর,তেমনি সেখানের জননেতাদের ত্যাগও আকাশচুম্বী।সেই মাটিরই সন্তান মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তাঁর নামের সঙ্গে মিশে আছে ‘চট্টলবীর’ এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর নাম-যিনি চট্টগ্রামের মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন নিঃস্বার্থভাবে। এদিকে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কেবল সেই বিশাল বৃক্ষের ছায়ায় নিজেকে আটকে রাখেননি, বরং নিজের প্রজ্ঞা ও রুচিশীল ব্যক্তিত্ব দিয়ে গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র এক পরিচয়।
নওফেল মানেই একজন সুশিক্ষিত, মার্জিত এবং সুতীক্ষ্ণ বাচনভঙ্গির এক রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর মতো যুবকের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে এক ধরণের স্বস্তির বার্তা দেয়। তাঁর উপস্থাপনা সাবলীল, যুক্তি অকাট্য এবং তাঁর রাজনৈতিক শিষ্টাচার দলমত নির্বিশেষে প্রশংসা কুড়িয়েছে। দেশের ইতিহাসে অল্প সময়ের ব্যবধানে সংসদ সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পেছনে কোনো জাদুর কাঠি ছিলো না; ছিলো তাঁর কাজের প্রতি একাগ্রতা ও দেশনেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস।
পিতা মহিউদ্দীন চৌধুরী ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,বীর মুক্তিযোদ্ধা,রাজপথের অকুতোভয় যোদ্ধা। ১৯৭৫-এর প্রতিরোধ সংগ্রামের একজন অগ্রজ সৈনিক। পিতার সেই সংগ্রামী চেতনার মশালটি নওফেল হাতে তুলে নিয়েছেন অত্যন্ত সচেতনভাবে। শেখ হাসিনার পরম মমতায় তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও, নওফেল নিজের বিচক্ষণতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে যোগ্যতা থাকলে রাজকীয় উত্থানকেও অর্থবহ করা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশবাসীর নজর কেড়েছিলো। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পরবর্তী প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। অধিকাংশ নেতাকর্মী যখন নীরবতায় ঢাকা পড়েছেন,তখন নওফেল তাঁর মেধা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দলের পক্ষে যুক্তি ও সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম-সর্বত্রই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি দলের আদর্শিক অবস্থানকে সংজ্ঞায়িত করছে।
সংকটের মেঘাচ্ছন্ন সময়েও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল যেভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলছেন, তা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের চোখেও প্রশংসনীয় হয়েছে। রাজনীতি কেবল স্লোগান বা মিছিল নয়, রাজনীতি হলো পরিবর্তনের শিল্প। মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সেই শিল্পের একজন দক্ষ কারিগর। পৈত্রিক ঐতিহ্য আর নিজের অর্জিত জ্ঞান-এই দুইয়ের সমন্বয়ে তিনি আজ কেবল চট্টগ্রামের নন,বরং বাংলাদেশের এক প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন। দেশের এমন এক কঠিন সময়ে তাঁর এই সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, সুযোগ্য নেতৃত্ব কেবল সু-সময়ে নয়, দুঃসময়েই সবচেয়ে বেশি প্রোজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়। লেখক:কবি ও সিনিয়র সাংবাদিক