
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও সমীকরণের মাঝে এক নতুন দাবির কথা উঠে আসছে। বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ।
যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতায় বিষয়টিকে অনেকে 'অসম্ভব' বলে মনে করছেন, তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে এটি নিয়ে একটি জোরালো আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হননি। সর্বোচ্চ পদের তালিকায় বিচার বিভাগে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (সাবেক প্রধান বিচারপতি) নাম থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষেত্রে তা এখনো অস্পর্শিত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো একজন পোড়খাওয়া জাতীয় নেতাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করবে।
আলোচনায় ভারতের উদাহরণ টেনে বলা হচ্ছে, সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ড. এপিজে আব্দুল কালামের মতো ব্যক্তিরা রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, এমনকি বিজেপি সরকারের শাসনামলেও। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ন্যারেটিভ ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কারণে এই ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়।
মন্তব্য প্রতিবেদনে কয়েকটি প্রধান অন্তরায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
সাম্প্রদায়িক ন্যারেটিভ: সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মধ্যে গেঁথে থাকা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংস্কার।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা: প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ধরনের সাহসী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।
সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ: রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ কৌশলের প্রভাব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বক্তব্য অনুযায়ী, "আশা করতে কোনো খরচ নেই।" গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং আপসহীন নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়ে তাকে এই পদে দেখার ইচ্ছা মূলত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্নেরই বহিঃপ্রকাশ।