আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের একটি মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে এক কাশ্মীরি পরিবারের সঙ্গে বিপুল অংকের আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW) তদন্ত শেষে শ্রীনগরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে।
কাশ্মীরি সংবাদমাধ্যম দ্য রাইজিং কাশ্মীর-এর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতারণার শুরু যেভাবে
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী পরিবার তাদের সন্তানকে বাংলাদেশে চিকিৎসাবিদ্যায় (এমবিবিএস) পড়াতে চেয়েছিলেন। অভিযুক্ত পিরজাদা আবিদ এবং সায়েদ ওয়াসিম (ইউরোপ কনসালটেন্সি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী) ওই পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা তাদের ছেলেকে বাংলাদেশের একটি নামী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেবেন। পরবর্তীতে এই চক্রের সঙ্গে ওভারসিজ কনসালটেন্সির মালিক সায়েদ সুহাইল আইজাজ এবং জাইগাম খানও যুক্ত হন।
যেভাবে টাকা আত্মসাৎ করা হয়
অভিযুক্তরা ভর্তির ফি বাবদ ওই পরিবারের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সমুদয় অর্থ বাংলাদেশের পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজে জমা দেওয়া হবে। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
-
অভিযুক্তরা পরিবারের কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা নিলেও কলেজে জমা দেন মাত্র ৮ হাজার মার্কিন ডলার (২০২১ সালের বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার টাকা)।
-
বাকি বিশাল অংকের টাকা তারা আত্মসাৎ করেন।
-
পূর্ণাঙ্গ ফি জমা না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জম্মু-কাশ্মীর ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইওডব্লিউ (এফআইআর নম্বর ২০/২০২৫) তদন্ত শুরু করে। ব্যাংক রেকর্ড, মেডিকেল কলেজের অফিশিয়াল পত্র এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত চারজন হলেন: ১. পিরজাদা আবিদ ২. সায়েদ ওয়াসিম (ইউরোপ কনসালটেন্সি সেন্টার) ৩. সায়েদ সুহাইল আইজাজ (ওভারসিজ কনসালটেন্সি) ৪. জাইগাম খান (ওভারসিজ কনসালটেন্সি)
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা) এবং ১২০-বি (ফৌজদারি ষড়যন্ত্র) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে আদালত মামলাটির পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছে।