
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাগদাদ-তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই হামলার দায় স্বীকার করার পাশাপাশি ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকদের তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি মার্কিন দূতাবাসের হেলিপ্যাডে আঘাত হানে। এতে পুরো দূতাবাস প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনবরত সতর্ক সংকেত (Siren) বাজতে থাকে। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত সঠিক হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করেনি ওয়াশিংটন।
হামলার পর এক নজিরবিহীন বিবৃতিতে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে:
ইরাকে অবস্থানরত যেকোনো মার্কিন কূটনৈতিক কর্মকর্তার অবস্থানের সঠিক তথ্য দিতে পারলে ১ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।
তাদের দাবি, ক্রমাগত হামলার মুখে মার্কিন কর্মীরা এখন সরকারি ভবন বা সামরিক ঘাঁটিতে থাকতে ভয় পাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতে লুকিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এই ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চল ত্যাগ না করা পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ইরানের পাল্টা আক্রমণের অধিকারকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তবে তারা ইরানকে একটি বিশেষ অনুরোধ করেছে:
"ইরানে আমাদের ভাইদের প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করার আহ্বান জানাই। এই আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রক্ষা করতে অঞ্চলের সব দেশকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি।"
মার্কিন প্রশাসন এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তাদের কূটনীতিক ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, তেহরান এই ধরনের সরাসরি হামলায় তাদের সম্পৃক্ততার দাবি বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে।