
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাগদাদ
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি হোটেলের সামনে থেকে শেলি কিটলসন নামে এক অভিজ্ঞ মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক অপহৃত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলের এই ঘটনায় ইরাকজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অপহরণের খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানীজুড়ে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) জানিয়েছে, এই অপহরণের ঘটনায় এরই মধ্যে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তির সঙ্গে ইরান-সংশ্লিষ্ট মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘কাতায়িব হিজবুল্লাহ’-এর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। এই তথ্যটি ওই অঞ্চলে বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শেলি কিটলসন দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে একজন নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর, ফরেন পলিসি, বিবিসি এবং পলিটিকো-এর হয়ে সাহসিকতার সাথে সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ইরাক ও সিরিয়ার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংঘাত নিয়ে অসংখ্য গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।
শেলির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন’স মিডিয়া ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএমএফ)। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট এলিসা লিস মুনোজ এক বিবৃতিতে বলেন:
‘আমরা শেলির নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে অত্যন্ত শঙ্কিত। তিনি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সর্বদা সত্য তুলে ধরেছেন। তার বর্তমান অবস্থান এখনো অজানা থাকাটা আমাদের জন্য উদ্বেগের।’
ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, অপহরণকারীদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে বাগদাদের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে ব্লক রেইড ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন এই সাংবাদিককে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে ইরাক সরকারের ওপর ব্যাপক কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
ইরাকে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই অপহরণের ঘটনাটি ইরাকের ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বেপরোয়া আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।