
রাজীব আলী, রাজশাহী:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই বোনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে বিভাগীয় প্রেসক্লাব রাজশাহীর হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মিনারা বেগম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে মিনারা বেগম জানান, গত ২৭ মার্চ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি তার বোন রেহেনা বেগমের বাসায় বেড়াতে গেলে জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হরিরামপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম, রোজিনা খাতুন, সাদিকুল, কালু, খোকন মাস্টার, লালটু, বাচ্চু, বাবলুসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের ঘিরে ফেলে।
এসময় জিআই পাইপ দিয়ে মিনারা বেগমকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি আরও জানান, তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার বোন রেহেনা বেগমকেও লাঠি ও বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার দুই পা ও ডান হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাদের মোবাইল ফোন, গলার চেইন ও ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা প্রায় ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে লোহার রড দিয়ে আবারও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। মিনারা বেগম বলেন, ওরা আমাকে মারধর করে ফেলে রাখার পর আমি পানি চাইলে কেউ দেয়নি।
এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় হামলার পরও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বাঘা থানার ওসি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মিনারা বেগম বলেন, আমরা বিচার চাইতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছি। পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে খোকন মাস্টারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।