নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা | ০২ মার্চ, ২০২৬
নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের ফলে সন্তান প্রসবের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. গোলাম কিবরিয়াকে (২৮) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত কিবরিয়া উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ এপ্রিল প্রতিবেশী ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন কিবরিয়া। এর ফলে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। গত বছরের আগস্ট মাসে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই সময় কিবরিয়া ও তার পরিবার ভুক্তভোগীর পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখায়।
আইনি পদক্ষেপ ও মামলা
নিরুপায় হয়ে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে কিবরিয়া এবং তাকে সহযোগিতার অভিযোগে পারুল আক্তার (৪০) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে বারহাট্টা থানায় মামলা করেন। মামলার দিনই পুলিশ পারুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করলেও কিবরিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
সন্তানের জন্ম ও ডিএনএ পরীক্ষা
মামলা চলাকালীন গত বছরের ২২ ডিসেম্বর নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী। আজ সোমবার পলাতক কিবরিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বারহাট্টা থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান:
“ইতিমধ্যেই নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এখন অভিযুক্ত কিবরিয়ার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। ডিএনএ রিপোর্ট পজিটিভ আসলে সেই অনুযায়ী আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”