৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বিএনপিপন্থী নারী শিক্ষক ড. লাকিকে চাকরিচ্যুত করতে মরিয়া সিকৃবি প্রশাসন!

admin
প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০২৬ ২২:২৯:১৩
বিএনপিপন্থী নারী শিক্ষক ড. লাকিকে চাকরিচ্যুত করতে মরিয়া সিকৃবি প্রশাসন!

Manual7 Ad Code

সুনির্মল সেন: ড. নাসরিন সুলতানা লাকী। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যে কয়টি মুখ সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে অবদান রাখেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। জাতীয়তাবাদী চেতনা ঘরনার শিক্ষক হিসেবে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে ‘সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজকে’ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার বিষয়ে প্রভাবিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। সেই নাসরিন সুলতানা লাকীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দিতে; চাকরিচ্যুত করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) বর্তমান প্রশাসন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়–নাসরিন সুলতানাকে বায়বীয় অভিযোগ, মিথ্যা ডকুমেন্টস, ভুয়া প্রমাণ তৈরি করে দাঁড় করানো হচ্ছে কাঠগড়ায়।

 

 

 

 

 

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন যখন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের নানাভাবে বঞ্চিত করার পুরোনো রীতি অনুসরণ করছিলো, তখন যারা এসবের বিরুদ্ধে কথা বলেন, ডক্টর নাসরিন সুলতানা লাকি তাদের একজন। তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়ায় ক্লাস, প্রশাসন সহ নানা পর্যায়ে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়া এবং তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরোধিতা করেন প্রথম থেকে । এ ছাড়া নতুন প্রশাসনের সময় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর এর দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হয় তার কাঁধে। এসব অভিযোগ এনেই নানান ছুঁতায় তার বিরুদ্ধে এবার অ্যাকশনে যাচ্ছে ‘কর্তৃত্ববাদী’ প্রশাসন। যারা এই ‘কর্তৃত্ববাদী’ প্রশাসনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি হলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আলিমূল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাকে যাতে শাস্তি দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যায়, সেই ক্ষেত্র তৈরি করতে এই পথে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে বিভিন্ন অজুহাতে নাসরিন সুলতানাকে বিব্রত ও একাধিকবার হেনস্তা করে কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

Manual3 Ad Code

‘কর্মক্ষেত্রে নারী শিক্ষিকাকে হেনস্তা’ করার অভিযোগ এনে ইতোমধ্যে সরকারের কয়েকটি বিভাগকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি। এ কারণেও কর্তৃপক্ষ তার ওপর বেজায় নাখোশ হয়ে ওঠে। প্রফেসর ড. নাসরিন সুলতানা লাকী সিকৃবির সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক। এর আগে তিনি এই বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে ‘সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ’ থেকে এখানে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু তার ওপর ভিসি আলিমুল অসন্তুষ্ট হন, যখন তিনি জুলাইযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাফিল আহমদ অরিত্রের ছাত্রত্ব কেড়ে নিতে প্রশাসনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এতে বেশ ক্ষুব্ধ হন ভিসি স্বয়ং। এ নিয়ে নানা সময় তাকে হেনস্তাও করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োকেমিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের একাধিক শিক্ষক সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে জানান, ড. লাকী অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি।

 

 

 

 

 

অবৈধভাবে তার বিভাগে শিক্ষার্থীদের যে ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে, সেটি মানছেন না। প্রতিবাদ করছেন লিখিতভাবে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমেষ চন্দ্র, প্রফেসর আতিকুজ্জামান এবং ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োকেমিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষক ড. রফিকুল ইসলাম ভিসির খুব কাছের ও আস্থাভাজন লোক হিসেবে পরিচিত। এদিকে, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক ড. অনিমেষের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই। এ নিয়ে তখন গণমাধ্যমেও বেশ কিছু সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শিক্ষা ছুটির কারণে সার্জারি বিষয়ের কোনো শিক্ষকই যখন ছিলেন না ওই বিভাগে, তখনই তার ডিগ্রি নেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার নীতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ছাড়া শ্রেণিশিক্ষক হতে পারেন না। ওই সূত্র জানায়, তার শ্রেণি শিক্ষক ছিলেন ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। যিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের মেডিসিন বিভাগ থেকে মেডিসিন বিষয়ে এমএস ডিগ্রিধারী। তিনি কোনোভাবেই সার্জারির শ্রেণিশিক্ষক হতে পারেন না।

 

 

 

Manual6 Ad Code

 

 

 

এসব নানা বিষয় নিয়ে একাডেমিকভাবে আপত্তি জানান ড. নাসরিন লাকী। এ কারণে উপাচার্য (ভিসি) সিন্ডিকেটের রোষানলের শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। অপর একটি সূত্র জানায়, সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানান নামে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসার ক্লিনিক। এটি ব্যবসায় পরিণত করেছেন ড. অনিমেষ সহ আরও কয়েকজন। অনিমেষের নিজের ক্লিনিক ‘প্যানাসিয়া ডেট এন্ড পেট কেয়ার’ নগরীর মিরাবাজারে। শহরের লাকড়িপাড়ায় ভেট কেয়ার নামে ক্লিনিক গড়ে তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক ড. মাহবুব ই ইলাহী ও ড. সুলতান আহমেদ। সার্জারি বিভাগের আরও একজন শিক্ষক ড. মাহফুজুল হক ‘পেট ও ভেট কেয়ার’ নামে নগরীর টিলাগড়ে গড়ে তুলেছেন আরেকটি ক্লিনিক। সার্জারি বিভাগের শিক্ষার্থী ডা. মো. সাফায়ার নগরীর শিবগঞ্জে ‘পালস পেট এন্ড ভেট কেয়ার’ নামক ক্লিনিক। অবৈধ ডিগ্রিধারী ও নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, অবৈধ এসব ক্লিনিক আর অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘোর বিরোধী ড. নাসরিন সুলতানা লাকী। তারাই পথের কাঁটা সরাতে একজোট হয়ে উপাচার্যের কান ভারী করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাড়িয়ে দিতে ওঠেপড়ে লেগেছেন।

Manual6 Ad Code

 

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত ৪৮তম একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে এই বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিল মেম্বার, বিএনপিপন্থি শিক্ষক ড. নাসরিন ২টি এজেন্ডা নিয়ে কথা বলার অনুমতি চান কাউন্সিলের সভাপতি উপাচার্য আলিমুলের কাছে। কিন্তু তিনি অনুমতি দেননি। এ নিয়ে পরে তিনি উচ্চবাচ্য করেন। একজন বহিঃসদস্যও এ নিয়ে কথা বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য (ভিসি) নানান অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত কমিটি করেন। বায়বীয় অভিযোগ এবং নিজের বিরুদ্ধে সুগভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়ে প্রফেসর ড. নাসরিন সুলতানা লাকী গত ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সুবিচার চেয়ে রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করেন। যাতে তিনি মব সৃষ্টির অভিযোগ আনেন। অভিযুক্ত অপরাধী শিক্ষার্থীদের বাঁচানোর জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে উল্টো বিতর্কিত সদস্যদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ অবস্থায় পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে

Manual8 Ad Code